ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, “আগামীর বাংলাদেশ হবে ইনসাফের বাংলাদেশ, আর সেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন মানবিক নেতা ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ডা. শফিকুর রহমান।”
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে এই গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ১৭ বছর মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল উল্লেখ করে তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ইনসাফের প্রতিনিধিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, তরুণ সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ আজ ইনসাফের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের অবহেলার কথা তুলে ধরে ডাকসু ভিপি বলেন, যোগ্য ও সৎ নেতৃত্বের অভাবে এই অঞ্চলের মানুষ বারবার বৈষম্যের শিকার হয়েছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট তরুণ, সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বকে সামনে এনেছে।
তিনি আরও বলেন, “হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী। বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে আমরা অবশ্যই হ্যাঁ ভোটকে বিজয়ী করবো।”
নীলফামারী-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় আরও বক্তব্য দেন রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, জাকসুর এজিএস ফেরদৌস আল হাসান, ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহসহ জামায়াত ও শিবিরের নেতারা।
এর আগে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ঢাকা থেকে বিমানে সৈয়দপুর পৌঁছালে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে তিনি শহরের হাতিখানা কবরস্থানে শহীদ সাজ্জাদ হোসেনের কবর জিয়ারত করেন এবং সৈয়দপুর শহরে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে গণসংযোগে অংশ নেন।
খাল খনন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের পর অবশেষে বিষয়টির অবসান ঘটেছে। পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য কবি মাসুদ অরুণ পারস্পরিক সাক্ষাতে স্পষ্ট করেছেন, ঘটনাটি ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড়জনিত পরিস্থিতির ফল, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো আচরণ নয়। সোমবার (১৩ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ওই সাক্ষাতের পর মাসুদ অরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি প্রকাশ করে জানান, সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি বাস্তব ঘটনার বিকৃত উপস্থাপন। তিনি উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত জনসমাগমের মধ্যে স্বাভাবিক ধাক্কাধাক্কির একটি অংশ বিশেষভাবে প্রচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে, যা দুই নেতার পারস্পরিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা। আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে এ ঘটনায় কোনো প্রকার ইচ্ছাকৃত আক্রমণ বা অসদাচরণের উপাদান প্রতীয়মান হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। উভয় পক্ষই বিষয়টিকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে আখ্যায়িত করে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বাদশ দিনে একাধিক বিল পাসকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলীয় জোট অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিটে তারা সম্মিলিতভাবে কক্ষ ত্যাগ করে। ওয়াকআউটের আগে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিরোধী পক্ষের উত্থাপিত যৌক্তিক আপত্তি উপেক্ষা করে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি বিল পাস করা হয়েছে, যা জনস্বার্থবিরোধী। এ প্রেক্ষাপটে উক্ত আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার দায়ভার এড়াতেই তারা সংসদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। এদিন অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা একাধিক অধ্যাদেশ অনুমোদন দেওয়া হয় এবং কিছু অধ্যাদেশ রহিত করে নতুন আইন পাস করা হয়। যেসব প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন ধারায় বিরোধী জোট আপত্তি জানিয়েছে, তার মধ্যে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন বিল, জেলা পরিষদ সংশোধন বিল ২০২৬, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংশোধন-সংক্রান্ত বিল, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত বিলসহ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল সংশোধন বিল উল্লেখযোগ্য। ঘটনাটি সংসদীয় কার্যক্রমে বিরোধী মতামতের প্রতিফলন ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
নির্বাহী সরকারের প্রভাববহুল দুর্নীতি দমন পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক এনসিপি নেতা ডা. তাসনিম জারা। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছেন, “যে কমিশন সরকারের দয়ায় গঠিত হয়, তা কখনোই স্বতন্ত্রভাবে সরকারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে না।” জারা উল্লেখ করেছেন, সরকার একটি অধ্যাদেশ বাতিল করতে চাইছে যা দুদককে প্রাথমিক অনুসন্ধান ছাড়াই বড় আর্থিক দুর্নীতি বা অর্থপাচারের মামলা দায়েরের ক্ষমতা দিত। এছাড়া, একটি স্বতন্ত্র বাছাই কমিটি গঠনের প্রস্তাবও স্থগিত রাখা হয়েছে। জারা বলেন, “হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির ক্ষেত্রে প্রাথমিক অনুসন্ধানকে ব্যবহার করে অপরাধীদের পালানোর সুযোগ দেওয়া অযৌক্তিক। একটি কার্যকর দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা অবশ্যই সরকারের প্রভাবমুক্ত হতে হবে।” তিনি সতর্ক করেছেন, সরকার যদি স্বাধীন বাছাই কমিটি গঠন না করে, তবে দুদক হবে “সরকার নির্ভরশীল” এবং বিরোধী দলকে দমন করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হবে। তিনি আইন বাতিলের পরিবর্তে সংশোধনের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন সংস্থাকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন।