একটি জেলার চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা হলো ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসার কেন্দ্র এই প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু আধুনিক ভবন ও কোটি টাকার বাজেট থাকা সত্ত্বেও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হাসপাতালের রক্ত সংগ্রহ কক্ষে রক্তদাতাদের হাতে স্ট্রেস বলের পরিবর্তে দেওয়া হচ্ছে রক্তচাপ মাপার (বিপি) মেশিনের পুরনো, ফাটা ও নোংরা রাবারের বাল্ব। বিষয়টি শুধু একটি ছোট সরঞ্জামের অভাব নয়, বরং হাসপাতালের তদারকি ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতারই স্পষ্ট প্রতিফলন।
রক্তদান একটি মানবিক কাজ। একজন মানুষ নিজের শরীরের রক্ত দিয়ে অন্যের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালের দায়িত্ব হলো তাকে স্বাস্থ্যকর ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্তু রক্ত সংগ্রহ কক্ষের বর্তমান চিত্রে সেই ন্যূনতম মানও রক্ষা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী রোগীর স্বজনদের বাইরে থেকে রক্তের ব্যাগ কিনে আনতে হয় এবং সরকারি ফি হিসেবে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা জমা দিতে হয়। প্রতিদিন বহু মানুষ রক্ত দিচ্ছেন এবং সেই অর্থও জমা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকশ টাকার স্ট্রেস বল বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনা সম্ভব না হওয়াটা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতাল হলো জীবাণুমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের স্থান। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বহু মানুষের ব্যবহৃত একটি নোংরা বাল্ব ব্যবহার করানো স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এতে চর্মরোগসহ বিভিন্ন সংক্রমণের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের ছোট ছোট অব্যবস্থাপনাই ধীরে ধীরে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়। তারা দ্রুত রক্ত সংগ্রহ কক্ষের সরঞ্জাম আধুনিকায়ন ও সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি হাসপাতাল শুধু ভবন ও বাজেটের প্রদর্শনী না হয়ে সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত ও নিরাপদ চিকিৎসাসেবার নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে হবে।
দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হলো বিশেষ বাসসেবা। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতজনিত দুর্ভোগ লাঘবে নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর একটি ৫৩ আসনের বাস চালু করেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করা হয়। মেডিক্যাল কলেজ সূত্র জানায়, সদর উপজেলার পলাশবাড়িস্থ কলেজ ক্যাম্পাস থেকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচ দফায় শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়া করবে বাসটি। পূর্বে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ব্যবহারিক ক্লাসে অংশ নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জিম্মা হোসেন বলেন, প্রায় তিনশ শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে বিআরটিসির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে এই বাসসেবা চালু করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে স্বস্তি এনে দেবে। এ সময় সংশ্লিষ্ট পরিবহন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে সাম্প্রতিক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসব সহায়তা বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার দর্জিপাড়ার কোরবান আলীর তিন ছেলের ঘর নির্মাণে ৩ বান ঢেউটিন, মুন্সিপাড়ার রহিমুদ্দিনকে ২ বান ঢেউটিন ও শুকনো খাবার এবং ক্যান্সার আক্রান্ত নূর বানুকে ১ বান ঢেউটিনসহ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। সাম্প্রতিক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবার পলিথিন টানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। সহায়তা পেয়ে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন। বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল মাবুদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী বাজারে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বৈশাখের দ্বিতীয় দিনে দিনব্যাপী এ মেলা বসে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক শতাব্দী আগে শুরু হওয়া এই মাছের মেলা বর্তমানে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। মেলায় রুই, কাতলা, বোয়ালসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ বেচাকেনা হয়। ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, বৈশাখে মাছের চাহিদা বেশি থাকায় মেলায় ভালো বিক্রির আশা থাকে। একই সঙ্গে এক জায়গায় নানা ধরনের বড় মাছ দেখার সুযোগ থাকায় দর্শনার্থীদের আগ্রহও থাকে বেশি। স্থানীয়দের মতে, এই মেলা শুধু বাণিজ্য নয়, বরং এলাকার ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবে প্রতি বছর নববর্ষে নতুন মাত্রা যোগ করে।