জগতের পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্তি ও পুণ্যলাভের আশায় জামালপুরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে অনুষ্ঠিত হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অষ্টমী স্নান।
প্রতি বছরের মতো এবারও ভোরের আলো ফুটতেই শেরপুর-জামালপুর সেতু এলাকার দক্ষিণ প্রান্তে নদীর তীরে ভক্তদের ঢল নামে। শেরপুর, জামালপুর, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা এ পুণ্যস্নানে অংশ নেন।
অষ্টমী স্নানকে কেন্দ্র করে নদীর তীর পরিণত হয় এক মিলনমেলায়। পুণ্যার্থীদের অনেককে ফুল, বেলপাতা, ডাব, ধান ও দূর্বা দিয়ে অর্চনা করতে দেখা যায়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এ দিনে পবিত্র নদীতে স্নান করলে পাপ মোচন হয় এবং পুণ্য অর্জিত হয়।

স্নান শেষে ভক্তরা স্থানীয় দয়াময়ী মন্দিরে পূজা-অর্চনা ও অর্ঘ্য প্রদান করেন। এ উপলক্ষে মন্দির সংলগ্ন এলাকায় তিনদিনব্যাপী অষ্টমী মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
পুণ্যার্থী শীলা রানী দাস বলেন, “প্রতি বছরই আমরা পরিবারের সবাই মিলে এখানে আসি। ব্রহ্মপুত্রের পবিত্র জলে স্নান করলে মনে এক ধরনের শান্তি ও প্রশান্তি আসে।”
আরেক পুণ্যার্থী সুশান্ত কুমার পাল জানান, “অষ্টমী স্নান আমাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে এসে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা হয়, তৈরি হয় এক মিলনমেলার পরিবেশ।”
দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হলো বিশেষ বাসসেবা। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতজনিত দুর্ভোগ লাঘবে নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর একটি ৫৩ আসনের বাস চালু করেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করা হয়। মেডিক্যাল কলেজ সূত্র জানায়, সদর উপজেলার পলাশবাড়িস্থ কলেজ ক্যাম্পাস থেকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচ দফায় শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়া করবে বাসটি। পূর্বে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ব্যবহারিক ক্লাসে অংশ নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জিম্মা হোসেন বলেন, প্রায় তিনশ শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে বিআরটিসির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে এই বাসসেবা চালু করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে স্বস্তি এনে দেবে। এ সময় সংশ্লিষ্ট পরিবহন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে সাম্প্রতিক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসব সহায়তা বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার দর্জিপাড়ার কোরবান আলীর তিন ছেলের ঘর নির্মাণে ৩ বান ঢেউটিন, মুন্সিপাড়ার রহিমুদ্দিনকে ২ বান ঢেউটিন ও শুকনো খাবার এবং ক্যান্সার আক্রান্ত নূর বানুকে ১ বান ঢেউটিনসহ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। সাম্প্রতিক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবার পলিথিন টানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। সহায়তা পেয়ে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন। বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল মাবুদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী বাজারে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বৈশাখের দ্বিতীয় দিনে দিনব্যাপী এ মেলা বসে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক শতাব্দী আগে শুরু হওয়া এই মাছের মেলা বর্তমানে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। মেলায় রুই, কাতলা, বোয়ালসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ বেচাকেনা হয়। ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, বৈশাখে মাছের চাহিদা বেশি থাকায় মেলায় ভালো বিক্রির আশা থাকে। একই সঙ্গে এক জায়গায় নানা ধরনের বড় মাছ দেখার সুযোগ থাকায় দর্শনার্থীদের আগ্রহও থাকে বেশি। স্থানীয়দের মতে, এই মেলা শুধু বাণিজ্য নয়, বরং এলাকার ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবে প্রতি বছর নববর্ষে নতুন মাত্রা যোগ করে।