অপরাধ

৬ মাসে নরসিংদীতে ২৪ খুনসহ ঘটেছে নানা অপরাধ

ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে বিদায় নিচ্ছে ডিসি আনোয়ার

Icon
নিখাদ খবর ডেস্ক
প্রকাশঃ এপ্রিল ৭, ২০২৬
মো. আনোয়ার হোসাইন
মো. আনোয়ার হোসাইন

 

গত ২৫ সেপ্টেম্বর মো. আনোয়ার হোসাইন জেলা প্রশাসক হিসেবে নরসিংদী যোগদান করার পর গত ৬ মাসে আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। ২৪ টি খুন, ধর্ষণ, প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন, ছিনতা, চাঁদাবাজি ও অপহরণের পরে ব্যবসায়ীকে নির্যাতনে মতো ঘটনা বেড়েছে এ জেলায়। 


জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসাবে তিনি তার এ সময়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এতে জনমনে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। 


এ জেলায় তার যোগদানের পর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘটনার মধ্যে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় চরম অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনুষ্ঠান বর্জন করেছিলেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। অংশগ্রহণকারীরা মঞ্চের সামনে বিক্ষোভও করেছিলেন। 
গত ০১ নভেম্বর জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। 


গত ০২ ডিসেম্বর রায়পুরায় এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ১৪ ডিসেম্বর পলাশে প্রেমিকের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে খাটের নিচ থেকে। ১৬ ডিসেম্বর পলাশে নিখোঁজের ২৪ দিন পর শিবপুর উপজেলা থেকে ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।


২৯ ডিসেম্বর মাধবদীতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এক ছাত্রদলকর্মী জাহিদুল ইসলামকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত ০৫ জানুয়ারি পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর বাজারে এক মুদি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ২০ জানুয়ারি রায়পুরা উপজেলায় জেল পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী অপুকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ২৫ জানুয়ারি সাহেপ্রতাবে গ্যারেজের ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিক (২৩) নামে এক যুবককে। এর পরদিন, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬-এ নরসিংদীর ড্রীম হলিডে পার্কের সামনে ঢাকা থেকে আসা অপরাধবিষয়ক সাংবাদিকদের (ক্র্যাব) ওপর স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনা ঘটে।


এর পর দিন শেখেরচরে ঘরে ঢুকে তিথী নামে এক কিশোরী কুপিয়ে হত্যার ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে মাধবদীতে ছেলের হাতে বাবা খুনের ঘটনা ঘটে।

৩০ জানুয়ারি শিবপুরে বাড়ির সামনে কুপিয়ে আহত মৎস্যজীবী লীগ নেতার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
০৪ ফেব্রুয়ারি রামপুরায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় এক স্কুলছাত্র ও আহত হয় ১০ জন।
৮ ফেব্রুয়ারি রায়পুরায় বাড়ি ফেরার সময় ‘পেছন থেকে ছোড়া’ দুর্বৃত্তের গুলিতে ব্যবসায়ী নিহত হয়। 
২৫ ফেব্রুয়ারি রায়পুরার সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
২৭ ফেব্রুয়ারি মাধবদীতে ধর্ষণের পর খুন হয় এক কিশোরী। 
০৩ মার্চ রায়পুরার নীলকুঠিতে জমি অধিগ্রহণের টাকা না পেয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইফুর রহমানসহ তিনজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। 

গত ০৬ মার্চ রায়পুরার চরাঞ্চলে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ডাকাতের গুলিতে মো. হেদায়েতুল্লাহ (২২) নামে এক জেলে নিহত হন।
একই রাতে মাধবদীতে চার সন্তানের মাকে (৪০) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মাধবদী থানায় মামলা হয়।
গত ১২ মার্চ শিবপুরে জমির বিরোধে ‘পায়ের রগ কেটে দেওয়া’ শিক্ষক আবু ছাঈদ মোগল (৭০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়।
গত ১৫ মার্চ রায়পুরায় নিখোঁজের পরদিন প্রতিবেশীর নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদ থেকে একটি শিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
গত ১৮ মার্চ পলাশ উপজেলায় একই এলাকা থেকে দুই বন্ধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 
গত ২৬ মার্চ নৈশপ্রহরীকে বেঁধে সদর উপজেলার চিনিশপুরে একটি গ্যারেজে রাখা ১৫টি অটোরিকশার ৬০টি ব্যাটারি লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল। বাধা দিলে গ্যারেজ মালিকের বাবা ও ছোট ভাইকে ছুরি মেরে আহত করা হয়। 
গত ০২ এপ্রিল রায়পুরা উপজেলায় হয়রানিমূলক মামলায় এক কৃষককে গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় লোকজন। 


গত শুক্রবার বেলা ১১টায় পলাশের ডাঙ্গায় মামুন নামের এক তরুণ কল করে ইটভাটায় ডেকে নিয়ে বুকে ও পিঠে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে খুন করে।
গত পরশু এএসপির নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার দায়ে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ পলাশ উপজেলার রাবানে বেকারত্ব ও মানসিক বিষণ্নতা সইতে না পেরে শুভ চক্রবর্তী (১৯) নামে এক তরুণ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। 


এছাড়া জেলার একাধিক ব্যবসায়ী ও সরকার দলীয় একাধিক বিএনপি নেতারা জানান, তিনি কাজের চেয়ে কথা বলেছেন বেশী। তার আমলে জেলার নদ-নদীর পানি দূষণ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দুর্নীতি, সম্পদের অপব্যবহার ও সামাজিক অবক্ষয়ের মত নানা ঘটনা ঘটেছে। তারা আরো বলেন, আশাকরি নতুন জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এসকল সমস্যা কাটিয়ে নব উদ্যোগে কাজ করে একটি বাসযোগ্য জেলা গঠনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাবো আমরা।

ছবি: প্রতিনিধি
জামালপুর সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণ ও ৩ লাখ টাকা প্রতারণা, চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

  শেরপুরে এক কিশোরীকে টার্গেট করে প্রায় সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), জামালপুর। শেরপুর সদর থানার মামলা নং-৪২ (তারিখ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ধারা ৪২০/৪০৬) অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ছাইদুর রহমান অভিযোগ করেন—তার ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণির কন্যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সুযোগে “কবিরাজ” পরিচয়ে মো. খুরশেদ নামের এক প্রতারক ইমু অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রতারক চক্রটি সমস্যার সমাধানের প্রলোভন দেখিয়ে ৬ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত বিকাশের মাধ্যমে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে ১০ মার্চ ঝাড়ফুঁকের কথা বলে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও আরও ১ লাখ টাকা নিয়ে নেয়। ঘটনার পর পুনরায় টাকা পাঠাতে গেলে দোকানদারের সন্দেহ হলে বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ পায় এবং প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। তদন্তে নেমে পিবিআই প্রযুক্তির সহায়তায় ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকা থেকে মুছা মিয়া (২৯) ও রফিকুল ইসলাম (২৮)-কে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ এপ্রিল ময়মনসিংহের মাসকান্দা এলাকা থেকে চক্রের মূলহোতা মনির হোসেন (২১)-কে আটক করা হয়। মনিরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার বাড়ির পাশের বাগান থেকে মাটি খুঁড়ে প্রায় ২৫ ভরি ৯ আনা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা। এছাড়া প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে জানা যায়, চক্রটি ইমু ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা চালিয়ে আসছিল। পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার বলেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে চক্রটির মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। তিনি সাধারণ মানুষকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া বিজ্ঞাপন বা তান্ত্রিকের প্রলোভনে পড়ে যাচাই ছাড়া অর্থ লেনদেন না করার আহ্বান জানান।  

তানিয়া আক্তার এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: প্রতিনিধি

পুলিশী পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে পিকআপ চালক আটক

যাত্রাবাড়ীর ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ রাব্বি গ্রেফতার

ছবি: প্রতিনিধি

নীলফামারীতে মন্দিরের কাছে কৃষকের গলাকাটা লাশ

ছবি: প্রতিনিধি
যাত্রাবাড়ীতে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে জখম, নিহত ১

  রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন কাজলা ভাঙ্গা প্রেস এলাকায় আর্থিক লেনদেনজনিত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংস ঘটনায় এক কলেজছাত্রী নিহত ও একই পরিবারের আরও তিন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভোরে সংঘটিত এ ঘটনায় নিহত দিয়া আক্তার (২০) ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মৌসুমী আক্তার (৩৫), মুয়াজ (১৫) ও জয়া (১২) বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত আবু মুসা নামে এক ব্যক্তি পাওনা অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে ভোরে নবীউল্লাহর বাসায় উপস্থিত হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হলে তা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে এলোপাতাড়ি হামলার ঘটনা ঘটে, যার ফলে পরিবারের একাধিক সদস্য গুরুতরভাবে আহত হন। ঘটনার পর অভিযুক্তকেও আহত অবস্থায় উদ্ধার করে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানায় বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অব্যাহত আছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: প্রতিনিধি

রংপুরে পুলিশ হত্যার দায়ে একজনের মৃত্যুদন্ড

সিকেডি হাসপাতালে চাঁদাবাজির অভিযোগে যুবদল নেতাসহ ৭ গ্রেফতার

বসুরহাটে স-মিল ভাঙচুর ও লুট, মির্জা কাদের-বুলবুলসহ ৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: প্রতিনিধি
সাবেক সেনাকে হামলার ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ী নুরু বিশ্বাস গ্রেফতার

                                ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় মাদক সেবন ও ব্যবসায় বাধা দেয়ায় সাবেক সেনা মো. শহিদুল সোহেলের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নুরু বিশ্বাস (৩৫) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে। অভিযান গট্টি ইউনিয়নের রঘুয়ারকান্দী এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে নুরুকে হামলার নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহমুদুল হাসান জানান, “অভিযান চালিয়ে হামলার মূল হোতা নুরুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।” ঘটনার সময় বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সালথা বাজারের জননী সুপার মার্কেটের দোতলায় একটি ক্লিনিকের অফিস কক্ষে শহিদুল সোহেলের ওপর হামলা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শহিদুলের বড় ভাই বাদী হয়ে সালথা থানায় মামলা করেছেন।  

ফরিদপুর প্রতিনিধি> এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0

স্বামীর নির্যাতনে স্ত্রী নিহত

ছবি: প্রতিনিধি

জামালপুরে জাল টাকার জালিয়াত চক্রের সদস্য গ্রেফতার

মো. আনোয়ার হোসাইন

ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে বিদায় নিচ্ছে ডিসি আনোয়ার

0 Comments