দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে যুদ্ধ সমর্থনে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যাচ্ছে বলে একাধিক জরিপে উঠে এসেছে। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট (আইডিআই)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর সময় জনমতের বড় অংশ সমর্থন দিলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে ইহুদি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমর্থন দ্রুত হ্রাস পেয়েছে।
জরিপে দেখা যায়, শুরুতে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসরায়েলি যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিলেও বর্তমানে সেই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। একইসঙ্গে আরব জনগোষ্ঠীর অবস্থান তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও সামগ্রিকভাবে সমর্থন কাঠামোয় পরিবর্তন স্পষ্ট।
নিরাপত্তা বিশ্লেষণ ও জনমত জরিপে আরও উঠে এসেছে, যুদ্ধের লক্ষ্য ও ফলাফল নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা এবং দৈনন্দিন জীবনের বিঘ্ন জনমনে ক্লান্তি সৃষ্টি করেছে।
ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ (আইএনএসএস)-এর পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব লক্ষ্য নিয়ে জনসমর্থন ছিল, সময়ের সঙ্গে সেগুলোর প্রতি আস্থা কমেছে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন বা সম্পূর্ণ সামরিক বিজয়ের প্রত্যাশা আগের তুলনায় অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘায়িত সংঘাত সাধারণত জনমতকে যুদ্ধবিরতির দিকে ঠেলে দেয়—ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও এখন সেই প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে, যেখানে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে মতামত ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।
ক্যামেরুন সফরে বৈশ্বিক যুদ্ধনীতি ও ক্ষমতাধর নেতাদের ভূমিকা নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন পোপ লিও। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অল্প কিছু স্বৈরশাসক বিশ্বকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে এবং সংঘাতকে বৈধতা দিতে ধর্মীয় ভাষার অপব্যবহার করা হচ্ছে। ক্যামেরুনের ইংরেজিভাষী অঞ্চলের বৃহত্তম শহরে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এসব মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বক্তব্য এসেছে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সমালোচনার পরপরই। পোপ লিও বলেন, যুদ্ধবাজ রাজনৈতিক নেতৃত্ব এমন আচরণ করছে যেন তারা ধ্বংসের পরিণতি সম্পর্কে অজ্ঞ, অথচ ধ্বংস করতে এক মুহূর্তই যথেষ্ট হলেও পুনর্গঠনে লাগে পুরো জীবন। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে হাজারো প্রাণহানির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয়ের সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিপুল অর্থ যুদ্ধ ও ধ্বংসে ব্যয় হলেও স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুনর্গঠনের মতো মানবিক খাতে অর্থ বরাদ্দে অনীহা দেখা যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক ভারসাম্যহীনতাকে আরও গভীর করছে। পোপ লিও বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য এখনই ‘দৃঢ় ও নৈতিক পরিবর্তনের পথ’ গ্রহণ করা জরুরি।
তিন দশকেরও বেশি সময়ের কূটনৈতিক নীরবতা ভাঙতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য— ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘোষণায় জানা গেছে, ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে আজ (বৃহস্পতিবার) সরাসরি টেলিফোন সংলাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, গত প্রায় ৩৪ বছর ধরে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বন্ধ ছিল , সেই দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক স্থবিরতা অবসানের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করছে এবং এই সংলাপকে পরিস্থিতি উন্নয়নের একটি প্রাথমিক কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউরোপজুড়ে কঠোর অভিবাসন নীতির বিপরীতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে স্পেন। দেশটির সরকার প্রায় পাঁচ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধ মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ অনুমোদন করেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সরকার এ কর্মসূচির অনুমোদন দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবেদনকারীরা এক বছরের নবায়নযোগ্য বসবাস ও কাজের অনুমতি পাবেন, যা পরবর্তীতে স্থায়ী কাঠামোয় রূপ নিতে পারে। সরকারি শর্ত অনুযায়ী, অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং নির্ভরযোগ্য অপরাধমুক্ত রেকর্ড থাকতে হবে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে জুনের শেষ পর্যন্ত চলবে। নীতিগতভাবে এই সিদ্ধান্তকে শ্রমঘাটতি পূরণ, জনসংখ্যাগত ভারসাম্য রক্ষা এবং অর্থনৈতিক চাহিদা মোকাবিলার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে মাদ্রিদ। বিশেষ করে কৃষি, পর্যটন ও সেবা খাতে অভিবাসীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে সরকার উল্লেখ করেছে। তবে বিরোধী দল পিপলস পার্টি এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছে, এতে ভবিষ্যতে অনিয়মিত অভিবাসন বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে মানবাধিকার ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। ইউরোপের অভিবাসন বিতর্কের মধ্যে স্পেনের এই পদক্ষেপকে মানবিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সমন্বিত নীতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।