গণতান্ত্রিক পর্যবেক্ষণে সম্প্রতি প্রকাশিত গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীকে লক্ষ্য করে বিচারবহির্ভূত গুমের ঘটনা নিয়মিতভাবে ঘটেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের শাসনামলে গুম ‘রাজনৈতিক অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। নির্বাচনের আগে বিশেষভাবে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের আটক ও নিখোঁজ করা হতো।
কমিশন বলেছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত মোট ১,৫৬৪টি গুমের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ ২১৫টি ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি ও এর সহযোগী যুবদলের নেতা-কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি নিখোঁজ ছিলেন, মোট নিখোঁজের ৬৮ শতাংশ। জামায়াতের নেতা-কর্মীরাও লক্ষ্যবস্তু ছিল, কিন্তু ফিরে না আসা সংখ্যায় বিএনপির নেতা-কর্মীরাই বেশি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিভিন্ন সংস্থায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের সঙ্গে গুমের হ্রাস–বৃদ্ধির সম্পর্ক লক্ষ্য করা গেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৬ সালে র্যাবের অপারেশন্স প্রধান পরিবর্তনের পর গুমের সংখ্যা কমে আসে। এছাড়া আন্তর্জাতিক নজরদারি ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও কিছু সময় গুমের ঘটনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছিল।
কমিশন জানিয়েছেন, গুমের ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ। এটি বোঝায়, কোন ঘটনা সাধারণ আইনশৃঙ্খলাজনিত নয়, বরং সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনকালীন গুম ও বিরোধী নেতা–কর্মীদের ওপর নিখোঁজের ঘটনা সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেত।
দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হলো বিশেষ বাসসেবা। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতজনিত দুর্ভোগ লাঘবে নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর একটি ৫৩ আসনের বাস চালু করেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করা হয়। মেডিক্যাল কলেজ সূত্র জানায়, সদর উপজেলার পলাশবাড়িস্থ কলেজ ক্যাম্পাস থেকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচ দফায় শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়া করবে বাসটি। পূর্বে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ব্যবহারিক ক্লাসে অংশ নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জিম্মা হোসেন বলেন, প্রায় তিনশ শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে বিআরটিসির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে এই বাসসেবা চালু করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে স্বস্তি এনে দেবে। এ সময় সংশ্লিষ্ট পরিবহন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে সাম্প্রতিক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসব সহায়তা বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার দর্জিপাড়ার কোরবান আলীর তিন ছেলের ঘর নির্মাণে ৩ বান ঢেউটিন, মুন্সিপাড়ার রহিমুদ্দিনকে ২ বান ঢেউটিন ও শুকনো খাবার এবং ক্যান্সার আক্রান্ত নূর বানুকে ১ বান ঢেউটিনসহ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। সাম্প্রতিক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবার পলিথিন টানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। সহায়তা পেয়ে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন। বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল মাবুদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী বাজারে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বৈশাখের দ্বিতীয় দিনে দিনব্যাপী এ মেলা বসে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক শতাব্দী আগে শুরু হওয়া এই মাছের মেলা বর্তমানে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। মেলায় রুই, কাতলা, বোয়ালসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ বেচাকেনা হয়। ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, বৈশাখে মাছের চাহিদা বেশি থাকায় মেলায় ভালো বিক্রির আশা থাকে। একই সঙ্গে এক জায়গায় নানা ধরনের বড় মাছ দেখার সুযোগ থাকায় দর্শনার্থীদের আগ্রহও থাকে বেশি। স্থানীয়দের মতে, এই মেলা শুধু বাণিজ্য নয়, বরং এলাকার ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবে প্রতি বছর নববর্ষে নতুন মাত্রা যোগ করে।