বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস উপলক্ষ্যে রবিবার সকালে খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্কুল হেলথ ক্লিনিকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মো: মিজানুর রহমান।
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিলো, “কুষ্ঠরোগ নিরাময়যোগ্য, সামাজিক কুসংস্কার প্রকৃত বাধা”।
সভায় বক্তারা বলেন, কুষ্ঠ রোগ সংক্রামক নয় এবং চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। উপসর্গ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা উচিত। সমাজে কুষ্ঠ নিয়ে প্রচলিত কুসংস্কার দূর করতে সচেতনতা বাড়ানো গেলে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশে কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
আলোচনা সভায় সাবেক যক্ষ্মা বিশেষজ্ঞ ডা. আনোয়ারুল আজাদ, পিনোনে’র প্রজেক্ট ও মেডিকেল ডিরেক্টর সিস্টার ডাঃ রবার্তে, সিএসএস আভা সেন্টারের ম্যানেজার মোঃ মোহসিন উদ্দিন, পিকেএসর এর ফেরদৌস কবীর ও মোঃ আক্তার হোসেন বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে কুষ্ঠরোগ নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, দিবস উদযাপনে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়, যাতে অংশ নেন বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণ।
দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হলো বিশেষ বাসসেবা। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যাতায়াতজনিত দুর্ভোগ লাঘবে নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর একটি ৫৩ আসনের বাস চালু করেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করা হয়। মেডিক্যাল কলেজ সূত্র জানায়, সদর উপজেলার পলাশবাড়িস্থ কলেজ ক্যাম্পাস থেকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচ দফায় শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়া করবে বাসটি। পূর্বে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ব্যবহারিক ক্লাসে অংশ নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জিম্মা হোসেন বলেন, প্রায় তিনশ শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে বিআরটিসির সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে এই বাসসেবা চালু করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে স্বস্তি এনে দেবে। এ সময় সংশ্লিষ্ট পরিবহন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে সাম্প্রতিক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসব সহায়তা বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পৌর এলাকার দর্জিপাড়ার কোরবান আলীর তিন ছেলের ঘর নির্মাণে ৩ বান ঢেউটিন, মুন্সিপাড়ার রহিমুদ্দিনকে ২ বান ঢেউটিন ও শুকনো খাবার এবং ক্যান্সার আক্রান্ত নূর বানুকে ১ বান ঢেউটিনসহ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। সাম্প্রতিক ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবার পলিথিন টানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। সহায়তা পেয়ে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন। বিতরণ অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল মাবুদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী বাজারে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বৈশাখের দ্বিতীয় দিনে দিনব্যাপী এ মেলা বসে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক শতাব্দী আগে শুরু হওয়া এই মাছের মেলা বর্তমানে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সামাজিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। মেলায় রুই, কাতলা, বোয়ালসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির বড় মাছ বেচাকেনা হয়। ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, বৈশাখে মাছের চাহিদা বেশি থাকায় মেলায় ভালো বিক্রির আশা থাকে। একই সঙ্গে এক জায়গায় নানা ধরনের বড় মাছ দেখার সুযোগ থাকায় দর্শনার্থীদের আগ্রহও থাকে বেশি। স্থানীয়দের মতে, এই মেলা শুধু বাণিজ্য নয়, বরং এলাকার ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবে প্রতি বছর নববর্ষে নতুন মাত্রা যোগ করে।