অর্থনীতি

ই-কমার্স ব্যবসায় আবারো চাঙ্গা ভাব: পুনর্জাগরণের সময়?

Icon
আয়ান তাহরিম
প্রকাশঃ জুন ২৮, ২০২৫
ই-কমার্স ব্যবসায় আবারো চাঙ্গা ভাব: পুনর্জাগরণের সময়?
ই-কমার্স ব্যবসায় আবারো চাঙ্গা ভাব: পুনর্জাগরণের সময়?

গত কয়েক বছর ধরে নানা চ্যালেঞ্জ ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর, বাংলাদেশে ই-কমার্স খাত আবারো ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিচ্ছে। কিছু বড় বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের পতনের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হলেও, বর্তমানে ধীরে ধীরে গ্রাহকদের আস্থা ফিরছে। নতুন উদ্যোক্তারা এ খাতে প্রবেশ করছে, পুরোনো খেলোয়াড়রাও নিজেদের পুনর্গঠনে ব্যস্ত। সব মিলিয়ে ই-কমার্সে এক ধরনের চাঙ্গাভাব লক্ষ করা যাচ্ছে।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় ই-কমার্স খাত একটি বড় সুযোগ পেয়েছিল। ঘরে বসে কেনাকাটা মানুষের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু প্রতিষ্ঠান সেই আস্থা ধরে রাখতে পারেনি। গ্রাহকের টাকা আটকে যাওয়া, পণ্যের সময়মতো ডেলিভারি না পাওয়া এবং অনিয়মিত রিফান্ড প্রক্রিয়ার কারণে এই খাত সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। সরকারের হস্তক্ষেপ ও নীতিমালার অনুপস্থিতিও সংকটকে আরও তীব্র করেছিল।

তবে সেই ধস কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে এই খাতটি। এখন অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারের ডিজিটাল কমার্স গাইডলাইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন (ই-ক্যাব) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বেশ কিছু কঠোর নিয়ম-কানুন বাস্তবায়ন করছে, যাতে গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষিত থাকে। এতে ক্রেতারা আবারো আগ্রহী হচ্ছেন অনলাইন কেনাকাটায়।

নতুন উদ্যোক্তারা অনেক বেশি স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অনেকেই কাস্টমার কেয়ার, ট্র্যাকিং সিস্টেম, ক্যাশ অন ডেলিভারি এবং সহজ রিফান্ড পলিসি চালু করে গ্রাহকের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। এর পাশাপাশি ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেও ছোট ছোট অনলাইন দোকান গড়ে উঠেছে, যারা স্থানীয়ভাবে দ্রুত সার্ভিস দিয়ে মানুষের চাহিদা পূরণ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ই-কমার্সের এখনও বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের তরুণ প্রজন্ম, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এবং স্মার্টফোন প্রবৃদ্ধি ই-কমার্সকে শক্ত ভিত্তি দিচ্ছে। তবে এই খাতকে স্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং গ্রাহকসেবায় উদ্ভাবন খুব জরুরি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ই-কমার্স আবারো জেগে উঠছে। এটি শুধু ব্যবসার পুনর্জাগরণ নয়, বরং গ্রাহক-ভিত্তিক একটি নতুন ও সুসংগঠিত ডিজিটাল বাণিজ্য সংস্কৃতির সূচনা। এখন সময়, আস্থার সেই ভাঙা সেতু পুনরায় গড়ে তোলার।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড়াল ৩৫ বিলিয়ন ডলার

বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রবণতার ধারাবাহিকতায় নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে দেশের রিজার্ভ—কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও ডলার সরবরাহের স্থিতিশীলতার ফলে মোট রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। আইএমএফের আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম–৬ পদ্ধতি অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০.৩৬ বিলিয়ন ডলার, আর গ্রস রিজার্ভ পৌঁছেছে ৩৫.০৩ বিলিয়ন ডলারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্যমতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিই এ অর্জনের প্রধান চালিকাশক্তি। চলতি মাসের প্রথমার্ধে প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৭৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। একদিনেই ১৮১ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসার ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে মোট প্রবাসী আয় প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার স্পর্শ করেছে, যা বার্ষিক ভিত্তিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। ডলার বাজারে ভারসাম্য রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিতভাবে বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয় অব্যাহত রেখেছে এবং এপ্রিল মাসেই একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এ প্রবণতা বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনলেও আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ভবিষ্যতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সার্বিক বিবেচনায়, রেমিট্যান্সনির্ভর এই রিজার্ভ বৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত বহন করলেও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সতর্ক নীতি সহায়তা প্রয়োজন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0

দেশের বাজারে ফের বাড়লো স্বর্ণের দাম

এপ্রিলের প্রথম ১২ দিনেই রেমিট্যান্স পৌঁছেছে ১৪৪ কোটি ডলারে

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম এক সপ্তাহে সর্বনিম্নে

বড় পতন স্বর্ণের দামে, ভরিপ্রতি হ্রাস ৪,৪৩২ টাকা

  দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঘোষিত নতুন দর শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হয়েছে। নতুন দরে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপা ভরিতে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানায়, চলতি বছরে স্বর্ণের দাম ৫৪ বার এবং রুপার দাম ৩৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কমলো স্বর্ণের দাম

আবারো স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিপ্রতি বৃদ্ধি ৬৫৯০ টাকা

রাত ৮টার মধ্যে সব দোকান ও শপিংমল বন্ধের নির্দেশ

আবারো বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশীয় স্বর্ণবাজারে মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় আবারও দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস), যা ভোক্তাদের ওপর নতুন আর্থিক চাপ তৈরি করেছে। সর্বশেষ ঘোষণায় প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে, ফলে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের মূল্য ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) বাজুসের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন এই দর সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) একই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা, অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সংগঠনটির ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধির প্রভাবেই স্থানীয় বাজারে এ সমন্বয় আনা হয়েছে। নির্ধারিত নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বগতি থাকলেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ৫ হাজার ৭১৫ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দামের অস্বাভাবিক উত্থান স্থানীয় বাজারেও প্রতিফলিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৬৭৫ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় এ প্রবণতা আরও জোরদার হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে বিশ্ববাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম একাধিকবার রেকর্ড ভেঙেছে। বিশেষ করে জানুয়ারির শেষ দিকে একদিনে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বৃদ্ধির মাধ্যমে ইতিহাসের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়। সার্বিক পরিস্থিতিতে, বাজার বিশ্লেষকরা স্বর্ণের দামে অস্থিরতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0

জুলাইয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ছয় এনবিএফআই অবসায়নের তহবিল সরবরাহ করবে: গভর্নর

দেশের বাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

টানা ৭ দফা কমার পর এবার বাড়লো স্বর্ণের দাম

0 Comments