ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত নতুন মাত্রা পাচ্ছে, যেখানে চেচেন সশস্ত্র যোদ্ধাদের সরাসরি অংশগ্রহণের ইঙ্গিত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট ইরানের ভূখণ্ডে স্থল অভিযান চালালে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তায় প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছে চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের অনুগত যোদ্ধারা।
সোমবার (৩০ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তারা চলমান পরিস্থিতিকে ‘ধর্মীয় যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়াইকে ‘জিহাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ‘কাদিরভতসি’ নামে পরিচিত এই বাহিনী নিজেদের অবস্থানকে নৈতিক ও আদর্শিক দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেছে।
উল্লেখ্য, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি অভিযোগ করেছেন, ইউক্রেন এই সংঘাতে পরোক্ষভাবে জড়িত হয়ে ‘বিশেষজ্ঞ’ পাঠিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি অবস্থান ও মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বেসামরিক হতাহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির অভ্যন্তরে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চেচেন যোদ্ধাদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা এবং তৃতীয় পক্ষের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এ সংঘাতকে দ্বিপাক্ষিক সীমা ছাড়িয়ে একটি বিস্তৃত ভূ-রাজনৈতিক প্রক্সি যুদ্ধে রূপ দিতে পারে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।
ক্যামেরুন সফরে বৈশ্বিক যুদ্ধনীতি ও ক্ষমতাধর নেতাদের ভূমিকা নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন পোপ লিও। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অল্প কিছু স্বৈরশাসক বিশ্বকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে এবং সংঘাতকে বৈধতা দিতে ধর্মীয় ভাষার অপব্যবহার করা হচ্ছে। ক্যামেরুনের ইংরেজিভাষী অঞ্চলের বৃহত্তম শহরে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এসব মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বক্তব্য এসেছে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সমালোচনার পরপরই। পোপ লিও বলেন, যুদ্ধবাজ রাজনৈতিক নেতৃত্ব এমন আচরণ করছে যেন তারা ধ্বংসের পরিণতি সম্পর্কে অজ্ঞ, অথচ ধ্বংস করতে এক মুহূর্তই যথেষ্ট হলেও পুনর্গঠনে লাগে পুরো জীবন। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে হাজারো প্রাণহানির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয়ের সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিপুল অর্থ যুদ্ধ ও ধ্বংসে ব্যয় হলেও স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পুনর্গঠনের মতো মানবিক খাতে অর্থ বরাদ্দে অনীহা দেখা যাচ্ছে, যা বৈশ্বিক ভারসাম্যহীনতাকে আরও গভীর করছে। পোপ লিও বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য এখনই ‘দৃঢ় ও নৈতিক পরিবর্তনের পথ’ গ্রহণ করা জরুরি।
তিন দশকেরও বেশি সময়ের কূটনৈতিক নীরবতা ভাঙতে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য— ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ঘোষণায় জানা গেছে, ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে আজ (বৃহস্পতিবার) সরাসরি টেলিফোন সংলাপ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, গত প্রায় ৩৪ বছর ধরে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বন্ধ ছিল , সেই দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক স্থবিরতা অবসানের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করছে এবং এই সংলাপকে পরিস্থিতি উন্নয়নের একটি প্রাথমিক কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউরোপজুড়ে কঠোর অভিবাসন নীতির বিপরীতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে স্পেন। দেশটির সরকার প্রায় পাঁচ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধ মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ অনুমোদন করেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সরকার এ কর্মসূচির অনুমোদন দেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আবেদনকারীরা এক বছরের নবায়নযোগ্য বসবাস ও কাজের অনুমতি পাবেন, যা পরবর্তীতে স্থায়ী কাঠামোয় রূপ নিতে পারে। সরকারি শর্ত অনুযায়ী, অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং নির্ভরযোগ্য অপরাধমুক্ত রেকর্ড থাকতে হবে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে জুনের শেষ পর্যন্ত চলবে। নীতিগতভাবে এই সিদ্ধান্তকে শ্রমঘাটতি পূরণ, জনসংখ্যাগত ভারসাম্য রক্ষা এবং অর্থনৈতিক চাহিদা মোকাবিলার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে মাদ্রিদ। বিশেষ করে কৃষি, পর্যটন ও সেবা খাতে অভিবাসীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে সরকার উল্লেখ করেছে। তবে বিরোধী দল পিপলস পার্টি এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছে, এতে ভবিষ্যতে অনিয়মিত অভিবাসন বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে মানবাধিকার ও ধর্মীয় সংগঠনগুলো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। ইউরোপের অভিবাসন বিতর্কের মধ্যে স্পেনের এই পদক্ষেপকে মানবিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সমন্বিত নীতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।