শিক্ষা

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা: সুযোগের চেয়ে চ্যালেঞ্জ বেশি?

Icon
জানিফ হাসান
প্রকাশঃ জুন ২৬, ২০২৫

শিক্ষাক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বেড়ে চলেছে। অনলাইন ক্লাস, ডিজিটাল কনটেন্ট, ভার্চুয়াল ল্যাব, স্মার্ট বোর্ডসহ নানা আধুনিক পদ্ধতির সংযোজনে পাল্টে যাচ্ছে শেখার ধরণ। সরকার ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে স্কুল-কলেজে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে উৎসাহিত করছে। কিন্তু বাস্তবচিত্র বলছে, সুবিধার চেয়ে চ্যালেঞ্জই যেন বেশি চোখে পড়ছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের কাছে।

 

প্রযুক্তির সুযোগ: শেখার নতুন দিগন্ত

করোনাকালে বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাসই হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের প্রধান আশ্রয়। এরপর থেকেই দেশজুড়ে বাড়তে থাকে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিধি। ডিজিটাল কনটেন্ট, মোবাইল অ্যাপ, ভিডিও টিউটোরিয়াল, ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম এখন অনেক শিক্ষার্থীর নিত্যসঙ্গী।

ঢাকার এক বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থী অনিক সাহা জানায়,

“ইউটিউব বা অ্যাপ থেকে আমরা এখন অনেক সহজে কঠিন বিষয় বুঝতে পারি। বাসায়ও শিখে ফেলার সুযোগ থাকে।”

শিক্ষক ও অভিভাবকরাও মনে করছেন, সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে প্রযুক্তি শিক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।

 

ইন্টারনেট ও ডিভাইসের সীমাবদ্ধতা

তবে এই সুবিধা এখনো দেশের শহর-কেন্দ্রিক একটি শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ। গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ইন্টারনেট সংযোগ, স্মার্ট ডিভাইস বা বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যায় প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার এক শিক্ষক বলেন,

“আমাদের স্কুলে ডিজিটাল বোর্ড আছে, কিন্তু বিদ্যুৎ থাকে না নিয়মিত। শিক্ষার্থীদের অনেকেই স্মার্টফোন পর্যন্ত চালাতে জানে না।”

শুধু ইন্টারনেট নয়, একাধিক সরকারি স্কুলে দেখা গেছে শিক্ষকরা নিজেরাও প্রযুক্তি ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। ফলে ক্লাসে ইচ্ছা থাকলেও ডিজিটাল উপায় কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না।

 

ডিজিটাল বিভাজন তৈরি করছে বৈষম্য

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় প্রবেশযোগ্যতার অভাব শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন ধরনের বৈষম্য তৈরি করছে। কেউ স্মার্টফোন ও দ্রুতগতির নেট নিয়ে ক্লাস করছে, কেউ আবার বই-খাতা জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছে।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ স্কুলে পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নেই। আর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫০ শতাংশেরও বেশি এখনো নিয়মিত ই-লার্নিং সুবিধা পায় না।

 

মনোযোগের ঘাটতি ও আসক্তির ঝুঁকি

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় একদিকে যেমন ভিডিও, অ্যানিমেশন, কোয়িজের মাধ্যমে শেখা সহজ হয়েছে, অন্যদিকে ডিজিটাল আসক্তি, মনোযোগহীনতা এবং সময় অপচয়ের আশঙ্কাও বেড়েছে।

মনোবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, অনলাইন শিক্ষার নামে শিক্ষার্থীরা অনেক সময়েই গেম বা সামাজিক মাধ্যমে আসক্ত হয়ে পড়ে। এতে শেখার মনোভাব তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ই, পাশাপাশি মানসিক ভারসাম্যও নষ্ট হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন,

“প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, দিকনির্দেশনা ও নিয়ম না থাকলে এটি আশীর্বাদ নয়, শিক্ষার জন্য প্রতিবন্ধকতাও হতে পারে।”

 

কারিগরি দক্ষতার অভাব শিক্ষকদেরও পিছিয়ে রাখছে

প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষকদের প্রস্তুতির ঘাটতি। এখনো দেশের বেশিরভাগ শিক্ষক ভিডিও কনটেন্ট তৈরি, ভার্চুয়াল লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে প্রশিক্ষিত নন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি থাকলেও সেগুলোর পরিধি ও গভীরতা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। অনেক শিক্ষক শুধু দেখানোর জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন, বাস্তবে তা শিক্ষার্থীর উপকারে আসছে না।

 

নীতিগত পরিকল্পনায় ঘাটতি

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধু প্রযুক্তি সরবরাহ করলেই শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন সম্ভব নয়। প্রয়োজন একটি সুপরিকল্পিত কৌশল, যেখানে প্রযুক্তি হবে মাধ্যম, উদ্দেশ্য নয়।

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক নীতিমালায় শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে কনটেন্ট তৈরি ও ব্যবহারবিধি ঠিক করতে এখনো কোনো সর্বজনীন নির্দেশনা নেই।

শিক্ষা

আরও দেখুন
এসএসসি পরীক্ষায় কার্যকর হচ্ছে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বা ‘নীরব বহিষ্কার’ বিধান কার্যকর করা হয়েছে।   সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন বা আচরণগত অনিয়মের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে বহিষ্কার না করে পরবর্তীতে তার উত্তরপত্র বাতিলের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হবে। নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে, দায়িত্বরত পরিদর্শক পরীক্ষার শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র পৃথকভাবে সংরক্ষণ করবেন এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ‘রিপোর্টেড’ হিসেবে চিহ্নিত করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে জমা দেবেন। এ ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষকের লিখিত প্রতিবেদনে বহিষ্কারের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া, নীরব বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীদের পরবর্তী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার ফলাফল আইনগতভাবে অকার্যকর গণ্য হবে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এ বিধান কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0

অটোপাশের দাবিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির উপর হামলা

শিখন ঘাটতি পূরণের জন্য ১০ শনিবার ক্লাস খোলা

লটারির পদ্ধতি বাতিল, স্কুল ভর্তি হবে পরীক্ষা নির্ভর: শিক্ষামন্ত্রী

ঢাবির নতুন ভিসি ওবায়দুল ইসলাম ও ইউজিসির চেয়ারম্যান হচ্ছেন মামুন আহমেদ

দেশের উচ্চশিক্ষা প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে নতুন নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পাচ্ছেন ঢাবির সহ–উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ। সোমবার (১৬ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ তথ্য জানান। অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিলেন। এর আগে ইউজিসির বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে আবেদন করেন। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদেও সম্প্রতি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন উপাচার্য নিয়াজ আহমদ খান রাষ্ট্রপতির কাছে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন এবং নিজ বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর উচ্চশিক্ষা খাতের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে পুনর্বিন্যাস শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির নেতৃত্বে এই নতুন পরিবর্তন আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
সালাহউদ্দিন আম্মার

ঢাবি নিয়ে আম্মারের বিতর্কিত মন্তব্য

বরিশাল শিক্ষাবোর্ডে সব পরীক্ষার্থী ‘মেয়ে’!

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উৎসব ভাতা শতভাগে উন্নীতের ঘোষণা

বিদ্যালয়ের সংশোধিত ছুটির তালিকা জারি

২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংশোধিত ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বুধবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে সাপ্তাহিক শুক্র ও শনিবার ছাড়া বছরে মোট ৬৭ দিন ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত টানা ৩৬ দিন শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এছাড়া ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ১০ দিন এবং শীতকালীন অবকাশ ও বড়দিন উপলক্ষে ২০ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ দিন ছুটি নির্ধারিত হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে অর্ধবার্ষিক, প্রাক-নির্বাচনী, নির্বাচনী ও বার্ষিক পরীক্ষার সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ধারণের পাশাপাশি পরীক্ষার সময়সীমা, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও তারিখ পরিবর্তনে পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। কোনো সরকারি কর্মকর্তার পরিদর্শন উপলক্ষে পাঠদান স্থগিত বা শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখার বিষয়টি স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0

শিক্ষার্থীদের থেকে পুনঃভর্তি ফি আদায় নিষিদ্ধ: শিক্ষা মন্ত্রণালয়

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রথম ভিসি হলেন ড. এ এস মো. আবদুল হাছিব

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় এআই অ্যাপ ব্যবহার, শিক্ষার্থী আটক

0 Comments